রাঙামাটি । শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধিঃ-

প্রকাশিত: ১০:৩০, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কাপ্তাই লেকে জলে ভাসা জমিতে বোরো ধানের চাষ।। ভাল ফলনের আশা

কাপ্তাই লেকে জলে ভাসা জমিতে বোরো ধানের চাষ।। ভাল ফলনের আশা
​​​​​​​কাপ্তাই লেকে জলে ভাসা জমিতে চাষ করা বোরো ধানের ফসল।

প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকে পানি শুকিয়ে কিছু স্থানে জেগে উঠে ছোট-বড় চর। লেকের আশপাশে বসবাসকারী ও লেকের উপর নির্ভরশীল মানুষজন এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ভেসে উঠা চরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে বেশ লাভবান হয়ে থাকে। চলতি শুষ্ক মৌসুমেও কাপ্তাই লেকে পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় নানা ফসলাদির চাষাবাদ শুরু করেছে লেকের পাশে বসবাসরত চাষীরা। বিশেষ করে বর্তমান বোরো মৌসুমে কাপ্তাই লেকের আশেপাশে জেগে উঠা চরে বোরো ধানের চাষ শুরু করা হয়েছে। জলে ভাসা এসব জমিতে চলতি মৌসুমে ভাল ফলনের আশা করছে স্থানীয় চাষীরা।

সম্প্রতি রাঙামাটি জেলাধীন কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলা সংলগ্ন লেকের বেশ কিছু স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, বোরো ধানের সবুজ আবরণে ছেয়ে গেছে কাপ্তাই লেকের চারপাশ। এ যেন সবুজের সাথে লেক আর পাহাড়ের অপরুপ মিতালি। চারদিকে বোরো ধানের চারা লাগানোর সমারোহ। সে সাথে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার কীছে স্থানীয় চাষীরা। কেউ কেউ কাপ্তাই লেকের পাশে জেগে ওঠা এসব ছোট বড় চরগুলোকে চাষের উপযোগী করে তুলছে। আবার অনেক চাষী সেসব চরে বোরো ধানের চারা লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ কাপ্তাই শুষ্ক মৌসুমে জলে ভাসা জমিতে ধানের চাষাবাদ করে আসছে রহমত আলী। আলাপকালে তিনি জানান, একসময় কাপ্তাই লেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তবে শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকে পানি শুকিয়ে গেলে তখন মাছ ধরা কমে যায়। ফলে তার আয় রোজগারও কমে যেত। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হতো। এরপর থেকে মাছ ধরার পাশাপাশি বছরের শুষ্ক মৌসুমে যখন কাপ্তাই লেকে পানি কমে আসে তখন থেকে জলে ভাসা জমিতে চাষাবাদ শুরু করি। এরপর থেকে গত ১৫ বছর যাবৎ তিনি এই চাষাবাদ করে আসছেন। এতে একদিকে যেমন সফলতা পেয়েছেন তেমনি তার সংসারেও স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

তারমতো কাপ্তাই লেকের উপর নির্ভরশীল চাষী মংবাচিং মারমা, সুবিমল তঞ্চঙ্গ্যা, সুলতানা বেগমসহ কয়েকজন চাষী জানান, তারা অনেকেই কাপ্তাই লেকে শুষ্ক মৌসুমে জলে ভাসা জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বিশেষ করে জলে ভাসা জমিতে চাষাবাদ করে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- লেকের জলে ভাসা জমি গুলোতে পলি ভরাট হয়ে থাকার ফলে লাঙ্গল ছাড়াই চাষাবাদ করা যায়। মাটি নরম থাকায় পরিশ্রম যেমন কম হয়, তেমনি চাষাবাদে খরচও অনেকটা কম হয়।

তারা জানান, এই চাষাবাদে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বেশ ভূমিকা পালন করে থাকে। অবসর সময় তারা এই চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করে থাকে।

তবে কিছু চাষী জানান, বর্তমানে কৃষি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের খরচও অনেক বেড়ে গেছে। সে সাথে নির্ধারিত সময়ের আগে কাপ্তাই লেকে পানি বাড়লে ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন তারা। 

তবে কাপ্তাই লেকের জলে ভাসা জমিতে চাষাবাদে জড়িত এসকল চাষীদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করে আসছে উপজেলা কৃষিবিভাগ। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানের পাশাপাশি চাষীদের সার্বক্ষনিক খোঁজখবর নিয়ে থাকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান আহমেদ জানান, কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্ভরশীল চাষীদের যারা জলে ভাসা জমিতে চাষাবাদ করে তাদের আমরা কৃষিবিভাগ থেকে ধানের পাশাপাশি সরিষা, ভুট্টা, সূর্যমুখীর বীজ প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করে আসছি। চাষের বিভিন্ন সার এবং সরঞ্জামও চাষীদের দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিবছর বোরো মৌসুমে কাপ্তাই উপজেলায় জলে ভাষা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়ে থাকে। প্রতিবছরই এসব জমিতে ভালো ফসল উৎপাদন হয়। বিশেষ করে, কাপ্তাই লেকে এই জলেভাসা জমিতে চাষ করা কৃষকদের আমরা উচ্চ ফলনশীল এবং উন্নত জাতের চারা প্রদান করি যাতে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলন ফলাতে পারে। 

পাশাপাশি আমরা কৃষিবিভাগের সকলেই জলে ভাসা জমিতে চাষ করা এ সকল কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করে থাকি। আশা করছি, প্রতিবছরের মতো এবারও কাপ্তাই লেকের জলে ভাসা জমিতে ফসলের ব্যাপক ফলন হবে।

সম্পর্কিত বিষয়: