রাঙামাটি । শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

নিউজ ডেস্কঃ-

প্রকাশিত: ১২:০৮, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আজ আ.লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা, দিক নির্দেশনা দেবেন শেখ হাসিনা

আজ আ.লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা, দিক নির্দেশনা দেবেন শেখ হাসিনা
ছবি: সংগৃহীত

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম বিশেষ বর্ধিত সভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবনে এ সভায় অংশ নেবেন সারা দেশের ৩ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী। দলীয় এমপি-জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র নির্বাচিত এমপি, জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সভায় মূলত চারটি নির্দেশনা দেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সারা দেশে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নৌকার প্রার্থী ও দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে এখনো বিশৃঙ্খলা চলছে। কোথাও কোথাও সহিংসতায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। দলীয় কর্মসূচিতে পৃথক পৃথক আয়োজন হতেও দেখা গেছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের স্তূপ দলের কেন্দ্র ও গণভবনে জমা হয়েছে। সেগুলো নিরসনের বার্তা দেবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

গতকাল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের সুদৃঢ় ঐক্যের দরকার। গত নির্বাচনে কৌশলগত কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন করেছেন। নির্বাচিত সিংহভাগই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। নির্বাচনে নিজেদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি, মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব, সংঘাতের মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। এসব হানাহানি, দলের অন্তঃকলহ, এসব বিষয়ের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে দলে সুদৃঢ় ঐক্য দরকার। সবকিছু ভুলে গিয়ে উপজেলা নির্বাচন, মেয়র নির্বাচন পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সফল করতে হবে। নির্বাচন ঘিরে যেন কোনো সংঘাত সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সবার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ আবহ তৈরির জন্য এ বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন।

জানা গেছে, সামনে সিটি করপোরেশন, উপজেলাসহ অনেক নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক কাউকে দেওয়া হবে না। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে এমপি-মন্ত্রীদের প্রভাব নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের শঙ্কাও কাজ করছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র বনাম দলীয় এমপি বা প্রার্থীদের মধ্যে নানামুখী বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিশেষ কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রাখা হলেও কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউকে প্রতীক না দেওয়া হলেও বিরোধ রাখতে চান না আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সে কারণেই তৃণমূলের ৩ হাজারের অধিক নেতাকে গণভবনে ডেকেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, জেলা/মহানগর ও উপজেলা/থানা/পৌর (জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা) আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা, জাতীয় সংসদের দলীয় ও স্বতন্ত্র সদস্যবৃন্দ, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দলীয় মেয়রগণ এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণসহ ৩ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী উপস্থিত থাকবেন।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় সভানেত্রী এই বর্ধিত সভায় কী কী নির্দেশনা দেবেন জানতে চাইলে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিশেষ বর্ধিত সভা মানেই বিশেষ নির্দেশনা। কী নির্দেশনা দেবেন সেটা বঙ্গবন্ধুকন্যা, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাই ভালো জানেন। তবে অনুমান করছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে কিছু কিছু জায়গায় স্বতন্ত্র বনাম নৌকার প্রার্থীদের কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। সেটা নিরসন করতে বলবেন। সামনে স্থানীয় সরকারের অনেক ভোট রয়েছে। সেগুলোতে যেন হানাহানি না হয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বার্থে উন্মুক্ত রাখার যে সিদ্ধান্ত সেটা জানাবেন। দেশবিরোধী চক্রান্তের ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলবেন বলেই ধারণা করছি।’

দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের পর আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলার সম্মেলন হবে। সেই সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনকে গতিশীল ও নতুন নেতৃত্ব আনা হবে। দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ১৮টি জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। যেসব জেলা-উপজেলার সম্মেলন হয়নি সেগুলোর সম্মেলন করার নির্দেশনা থাকবে আজকের বিশেষ বর্ধিত সভায়।

এ প্রসঙ্গে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘আজকের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলবেন। নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে দেশকে গড়ে তুলতে সব জায়গায় ঐক্য প্রয়োজন। সে বার্তা তিনি দেবেন। স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চক্রান্ত এখনো করছে, সেগুলো মোকাবিলা করতে নির্দেশনা দেবেন। যেসব জেলা-উপজেলার সম্মেলন হয়নি, রমজানের পর সেগুলোর সম্মেলনের নির্দেশনাও থাকবে দলীয় সভানেত্রীর ভাষণে।’

সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম বিশেষ বর্ধিত সভায় কী বার্তা দেবেন তার জন্য মুখিয়ে আছেন তৃণমূল নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা। দলীয় সভানেত্রীর বার্তা নিয়েই ফিরবেন এলাকায়। সংগঠনকে কোন্দলমুক্ত, সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আনা এবং যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জবাব দিতে সক্রিয় থাকবেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট-৩ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নেত্রীর বার্তার অপেক্ষায় আছি। নেত্রী অবশ্যই দলকে সুসংগঠিত করার বার্তা দেবেন। কারণ, সিলেট অঞ্চল এখনো তেমন সুসংগঠিত নয়। দীর্ঘদিন যে স্থানে সম্মেলন হয় না, সেগুলোর সম্মেলন করা বড় প্রয়োজন। তরুণদের সংগঠিত করে দলের ভিতরে ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। আশা করছি, নেত্রী সেই বার্তাই আমাদের দেবেন।’ সরকারদলীয় এমপিদের পাশাপাশি দলের স্বতন্ত্র এমপিদের নিয়েও প্রত্যাশার কথা জানাবেন দলীয় সভানেত্রী। দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাবেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ঢাকা-৫ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মশিউর রহমান মোল্লা সজল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশেষ প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাদের নির্বাচন করতে বলেছিলেন। দলের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। নেত্রী যে বার্তা দেবেন-সেটাই বাস্তবায়ন করব।’ আরেক স্বতন্ত্র এমপি ঢাকা-১৮ আসনের মো. খসরু চৌধুরী টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ আমরা গড়তে যাচ্ছি। আমরা মাঠপর্যায়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক হিসেবে কাজ করতে চাই। বঙ্গবন্ধুকন্যা যে নির্দেশনা দেবেন-সেটাই বাস্তবায়ন করব।’