রাঙামাটি । রোববার, ২৩ জুন ২০২৪ , ৮ আষাঢ় ১৪৩১

নিউজ ডেস্কঃ-

প্রকাশিত: ১০:৫১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

‘বাবা আমার কবরটা এখান থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নাও’

‘বাবা আমার কবরটা এখান থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নাও’
ছবি: সংগৃহীত

সাহেব আলী খান ৭২ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালে মারা যান। সম্প্রতি তিনি তার ছেলেকে কয়েকবার স্বপ্নে বলেছেন, ‘আমার কবরের ওপর দিয়ে রাস্তা যাচ্ছে। তুমি আমার কবরটা এখান থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নাও’। পরে সোমবার কবর খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুনরায় অন্য জায়গায় দাফন করা হয়।

এদিকে, ২৮ বছর আগে দাফন করা ঐ মরদেহ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। মরদেহ এবং কাফনের কাপড়ও ছিল অক্ষত। এই খবর শুনে ঐ বাড়িতে ভিড় জমান এলাকাবাসী। শুধু এলাকাবাসী নন, দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে দেখতে আসেন মরদেহ।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ডেঙ্গুরভিটি গ্রামে। 

জানা গেছে, ঐ গ্রামের বাসিন্দা সাহেব আলী খান ৭২ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। পরে তাকে ডেঙ্গুরভিটি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।

সাহেব আলী খানের ছেলে মোবারক হোসেন খান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করে আসছি। গ্রাম থেকে ফোনে জানানো হয়েছে আমার বাবার কবরের ওপর দিয়ে রাস্তা যাচ্ছে। আমি কয়েকবার স্বপ্নেও দেখেছি বাবা বলেছে- ‘আমার কবরের ওপর দিয়ে রাস্তা যাচ্ছে। তুমি আমার কবরটা এখান থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নাও’। তখন আমি চাচা এবং গ্রামের লোকজনকে বলেছি দেশে এলে বাবার কবরটা এখান থেকে সরিয়ে নেব। রোববার আমি ইতালি থেকে দেশে এসে হুজুরদের সঙ্গে কথা বলে ধর্মীয় নিয়ম মেনে আত্মীয়স্বজন ও এলাকার লোকজন নিয়ে বেলা ১১টার দিকে কবরের কাছে যাই।

মোবারক আরো বলেন, কবর খুঁড়তেই সাদা কাপড় দেখতে পাই আমরা। একপর্যায়ে অক্ষত মরদেহ দেখে ঐ জায়গা থেকে উত্তোলন করে আমার মায়ের কবরের পাশে দাফন করি। ২৮ বছর পরও বাবার মরদেহ অক্ষত দেখে সবাই হতভম্ব হন।

মোবারক হোসেন খান বলেন, আমার বাবা সাধারণ মুসল্লি ছিলেন। অনেক পরহেজগার ছিলেন তিনি। মরদেহ কবর থেকে তোলার পর দেখি কাফনের কাপড়ও পচেনি। ধরে দেখি কাপড়ের ভেতরে শুকনো দেহ আছে। প্রতিটি হাড়ের জোড়া শক্ত। হাত-পায়ের জোড়া বিচ্ছিন্ন হয়নি।

এ বিষয়ে ডেঙ্গুরভিটি গ্রামের আব্দুল গনি খান, ফজলুল হক বকাউল ও ফয়সাল আহাম্মেদ বলেন, সাহেব আলী খানের মরদেহ অলৌকিকভাবে ২৮ বছর পরও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতি মেনে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ছেংগারচর বাজার আন-নুর ইসলামীয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মাইনুদ্দিন খান বলেন, আল্লাহ নানাভাবে তার কুদরতের নিদর্শন দেখান। হয়তো এটি আল্লাহর একটি নিদর্শন। এমনও হতে পারে সাহেব আলী খান আল্লাহর গ্রহণযোগ্য বান্দা ছিলেন। তাই অলৌকিকভাবে মরদেহ অক্ষত আছে।

মতলব উত্তর থানার ওসি মহিউদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি দেখেছি। এ বিষয়ে কেউ জানায়নি। শুনেছি মরদেহ উত্তোলনের পর ফের কবর দেওয়া হয়েছে।