রাঙামাটি । শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

নিউজ ডেস্কঃ-

প্রকাশিত: ১৭:১০, ১০ জানুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ১৭:১১, ১০ জানুয়ারি ২০২৪

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫ মাসে ৪০ হত্যাকাণ্ড

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫ মাসে ৪০ হত্যাকাণ্ড
রোহিঙ্গা ক্যাম্প -ফাইল ছবি

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয় ক্যাম্পগুলোয় গোলাগুলি, সংঘর্ষ ও খুনোখুনির ঘটনা বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের আধিপত্য বিস্তার, মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে অধিপত্য বিস্তারের এই লড়াইয়ে আতঙ্কিত সাধারণ রোহিঙ্গারা। এছাড়া জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সবশেষ গত ২১ ডিসেম্বর একইদিনে খুন হন তিনজন। ভোররাত ৪টা ও ৬টা এবং বেলা ৩টায় উপজেলার ১৭ নম্বর ক্যাম্পে ‘সি’ ব্লক ও কুতুপালং ৪নং এবং জামতলী ১৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ তিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ৫ মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় একাধিক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৪০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা (মাঝি) নেতা, ১০ জন সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসা সদস্য, একজন স্বেচ্ছাসেবক এবং অন্যরা সাধারণ রোহিঙ্গা ছিলেন।

ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট এলাকা পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, ক্যাম্পের পরিবেশ অস্থিতিশীল রেখে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে। এতে তাদের কাছে আসছে মোটা অঙ্কের অর্থ সহায়তা। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

উখিয়া থানার ওসি মো. শামীম হোসেন জানান, ক্যাম্পে আধিপত্য ও নানা অপকর্ম নিয়ন্ত্রণে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের তাদের গতিবিধি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র ও রোহিঙ্গা নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত এপ্রিল মাসে উখিয়ার কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫টি পৃথক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় দু’জন আরসা সন্ত্রাসীসহ ৫ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ হয় এক রোহিঙ্গা। গত মার্চে কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১০টি পৃথক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১১ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হন এক শিশুসহ ৪ রোহিঙ্গা।

কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা জানান, সন্ধ্যা নামার পরপরই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় আরসা, আরএসওসহ একাধিক গোষ্ঠী অস্ত্রের মহড়া দেয়। আধিপত্য বিস্তারে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে এই সন্ত্রাসীরা।

এদিকে উখিয়ার কুতুপালং, মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, বালুখালীসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার প্রধান কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিসহ ৮ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। বার্মিজ ও ইংরেজি ভাষায় লেখা পোস্টারে আরসা সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিলে লাখ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে মাদক চোরাচালানের অন্যতম হোতা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনকে ধরিয়ে দিতে পোস্টার লাগানো হয়েছিল। গত বছরের মার্চে নবী হোসেনকে ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করে পোস্টার সেঁটেছিল কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি।

চলতি বছরে উখিয়ার বালুখালীসহ কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ৭টি বিদেশি পিস্তল, ৩০টির বেশি ওয়ানশুটার গানসহ বিপুল গোলাবারুদসহ অন্তত ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে ১৪ এপিবিএন। কিন্তু আরসা, আরএসও, নবী হোসেন বাহিনীর মূল হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। সন্ত্রাসীদের ধরতে এখন যৌথ অভিযান দরকার বলে মনে করছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা।

১৪ এপিবিএন অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. ইকবাল বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ধরতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদসহ আরসার কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু মূলহোতারা বেশিরভাগই মিয়ানমার সীমান্তে এবং কিছু অংশ টেকনাফের গহীন অরণ্যে অবস্থান করায় ধরা সম্ভব হচ্ছে না। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিতে পোস্টার সাঁটানো প্রসঙ্গে র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএইচ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এগুলো আরসা ও আরএসওর লোকজন করছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে শক্তি দেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তবে, সন্ত্রাসীদের দমনে কঠোর অবস্থানে আছে র‌্যাব।

যৌথ অভিযানের ঘোষণা প্রসঙ্গে ৮ এপিবিএন অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আমির জাফর (বিপিএম) বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান। অস্ত্রশস্ত্রসহ বহু সন্ত্রাসী ধরাও পড়ছে। তারপরও নতুন কিছু নির্দেশনা আসতে পারে।