রাঙামাটি । মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪ , ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

জুরাছড়ি প্রতিনিধিঃ-

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

জুরাছড়িতে ইউএনওসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তার পদ শূন্য

​​​​​​​চলছে অতিরিক্ত দায়িত্ব কর্মকর্তা দিয়ে

জুরাছড়িতে ইউএনওসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তার পদ শূন্য

জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তা শূন্য পরে রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। এসব পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েই জোড়াতালি ভাবে চলছে প্রশাসনিক কর্যক্রম। এতে করে সরকরের সেবা যথাযথ ভাবে বাস্তবায়নে আলোর মুখ দেখতে পারছেনা এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রাউজানে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ শাহিন নওশাদ। এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি অতিরিক্ত দায়িত্ব মাধ্যমে চলছে ৮-১০ বছর।

উপজেলা প্রশাসনিক প্রধান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গত ২৯ ফেব্রুয়ারি পদ শূন্য হয়েছে। পাশ্ববর্তী বরকল উপজেলা ইউএনও মোঃ ফোরকান এলাহি অনুপম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদ গেল বছর অক্টোবর শূন্য হয়। এতে বরকল উপজেলার কর্মরত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল কাউম খান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও প্রায় সময় মূল দায়িত্ব কর্মস্থলে অফিসিয়ালি কাজ শেষ করেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ,কে,এম ফজলুল হক। উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব জেলা সহকারি প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তিনি অন্যত্র বদলিতে পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কর্মকর্তা পদের ৩ বছরের বেশী সময় ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন কাউখালী উপজেলার কর্মকর্তা প্রিয়তোষ কান্তি নাথ। পরিসংখ্যান বিভাগের কর্মকর্তা পদ শূন্য প্রায় ১২ বছর। মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগে অফিস চলছে ৬ বছর ধরে অফিস সহায়কের মাধ্যমে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের অফিস আছে কিন্ত কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। তথ্য আপার কর্মকর্তা পদ রয়েছে শূন্য। পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদও রয়েছে শূন্য।

এসব গুরুত্বপূর্ন দপ্তরে কর্মকর্তা শূন্য থাকায় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে না। এসব অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসে ১/২ দিন এলেও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ অনেক কর্মকর্তা মূলদায়িত্ব উপজেলায় অফিসিয়েলের কাজ সম্পাদন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে অনেক দপ্তরে দপ্তরে কর্মচারীরা বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মকর্তাদের কাছে অফিসের কাজে গেলে বিরম্বনায় পড়তে হয়। কষ্ট করে যাওয়ার পরেও অনেক সময় কর্মকর্তারা কাজ ঠিকমতোই সম্পাদন করে দেননা।

বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা পদ শূন্য থাকায় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা যথাযথ ভাবে পৌঁছাতে পারছেনা।

এদিকে, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা সরকারের সেবা ত্বরান্বিত করতে শূন্য পদে দ্রুত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।

অপরদিকে, ৬ষ্ঠ ধাপে উপজেলা নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গুরুত্বতা বিবেচনায় দ্রুত পদায়ন চাই সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।