রাঙামাটি । মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪ , ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধিঃ-

প্রকাশিত: ১১:৪৭, ১৫ মে ২০২৪

মাশরুম চাষ করে স্বাবলম্বী কাপ্তাইয়ের অনিল মারমা

মাশরুম চাষ করে স্বাবলম্বী কাপ্তাইয়ের অনিল মারমা
মাশরম চাষে ব্যস্ত অনিল মারমা।

কাপ্তাই উপজেলাধীন ওয়াগ্গা ইউনিয়নে বসবাসরত অনিল মারমা শখের বসে মাশরুম চাষ শুরু করে সফলতা পাওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বীও হয়েছেন।

কাপ্তাই উপজেলার বড়ইছড়িস্থ নিজ বাড়িতে তিনি মাশরুম চাষ শুরু করেন প্রায় তিন বছর আগে। বিশেষ করে অবসর সময়টিকে কাজে লাগাতে তিনি মাশরুম চাষের পরিকল্পনা থেকে এই কাজ শুরু করেন। এতে সফলতা পাওয়ায় তিনি মাশরুম চাষের দিকে ঝুকে পড়েন। একাজে তিনি স্থানীয় বেকার যুবক-যুবতীদের উৎসাহিত করার জন্য মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণও দিয়ে যাচ্ছেন। 

মাশরুম চাষী অনিল মারমার জানান, বর্তমানে তিনি এলএলবি সম্পন্ন করেছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মাশরুম চাষের বিষয়টি অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে তার। তিনি শখেরবসে অনেকটা পরীক্ষামূলক মাশরুম চাষ শুরু করলেও বর্তমানে বেশ সফলতা পেয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের মাগুরা জেলার ড্রীম মাশরুম সেন্টার থেকে মাশরুষ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। যেখানে মাশরুম চাষের অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক বাবুল আক্তারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বর্তমানে কাপ্তাই উপজেলা সদর বড়ইছড়ির নিজ বাড়ির পাশে একটি শেড বানিয়ে মাশরুম চাষ করছেন। এই ১টি শেডে কমপক্ষে ১ হাজার মাশরুম চাষ উপযোগী খড়ের সিলিন্ডার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক ভাবে স্বল্প পরিসরে মাশরুম চাষ করলেও গত চার মাসে ৪শ' খড়ের সিলিন্ডার থেকে মাশরুম উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩শ’ কেজি। উৎপাদিত এই মাশরুম রাঙামাটি জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারীভাবে বিক্রয় করেছেন তিনি। এতে তিনি প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয়ও করেছেন। তিনি যদি সারা বছরে ১ হাজার খড়ের সিলিন্ডার তৈরি করে মাশরুম উৎপাদন করতে পারেন তাহলে বছরে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে অনিল জানান। কাপ্তাই উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে বিভিন্ন ভাবে তাকে সহযোগীতা করা হচ্ছে বলে অনিল মারমা জানিয়েছেন।

এদিকে, অনিল মারমা কেবল মাশরুম চাষে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং মাশরুম চাষের পাশাপাশি তিনি ৩য় প্রজন্মের ধানের মাদার বীজ উৎপাদন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে বর্তমানে তার এলাকার বেকার যুবক ও মহিলারা কাজ করার সুযোগ পাবে। অনিল মারমা মাশরুম চাষের উপর যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেছেন, তা হলো এই মাশরুম চাষের পরিসর বৃদ্ধি করে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং মাশরুম চাষে ব্যাপক সফলতার মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করা। এতে সফল হবেন বলে তিনি আশা করছেন।

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ ইমরান আহামেদ জানান, বর্তমানে দেশে-বিদেশে মাশরুম চাষ দিনদিন অনেক জনপ্রিয় হচ্ছে। অনিল মারমার মতো যদি অন্যরাও এই মাশরুম চাষে শুরু করে, তবে অনেকেই এতে স্বাবলম্বী হতে পারবে। কেননা মাশরুমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং মাশরুমের কদরটা অনেক বেশি। অনিল মারমাকে মাশরুম চাষে কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগীতা করে যাচ্ছে। তিনি অনিল মারমার মাশরুম চাষের কার্যক্রমের সফলতা কামনা করেন।

সম্পর্কিত বিষয়: