রাঙামাটি । শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধিঃ-

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩

আপডেট: ১০:৫৮, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩

হরতাল অবরোধের প্রভাব

​​​​​​​কাপ্তাই জেটিঘাট-বিলাইছড়ি নৌ রুটে পর্যটক শূন্য, চালকদের নিদারুণ কষ্ট

​​​​​​​কাপ্তাই জেটিঘাট-বিলাইছড়ি নৌ রুটে পর্যটক শূন্য, চালকদের নিদারুণ কষ্ট
​​​​​​​কাপ্তাই-বিলাইছড়ি নৌরুটের জেটিঘাটে যাত্রীবিহীন অপেক্ষামান বোট।

বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর ডাকা টানা হরতাল অবরোধের প্রভাবে কাপ্তাই জেটিঘাট-বিলাইছড়ি নৌ রুটে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে। এতে আয়-রোজগার বিহীন অর্থ কষ্টে বোট চালকরা দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই লেক পর্যটকদের কাছে সবসময় আর্কষণীয় একটি স্থান। কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ জলরাশি উপভোগ করতে লেক পাহাড়ের সৌন্দর্য অবলোকন এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ঝর্ণা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে কম-বেশি সারাবছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে কাপ্তাই জেটিঘাট-বিলাইছড়ি নৌ রুটে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বেশী পর্যটকের আনাগোনা থাকে। কিন্তু বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর ডাকা টানা হরতাল এবং অবরোধে আশঙ্কাজনক হারে পর্যটক কমেছে এই নৌ রুটে। ফলে কাপ্তাই-বিলাইছড়ি নৌ রুটের উপর নির্ভরশীল বোট মালিক এবং চালকদের অলস সময় পার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বোট চালকরা আয়-রোজগার করতে না পেরে নিদারুন অর্থ কষ্টে দিনযাপন করছে।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) কাপ্তাই জেটিঘাট পল্টুনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় যাত্রী শূন্য অলস অবস্থায় ঘাটে পড়ে আছে বোটগুলো। ৪-৫ জন যাত্রী অপেক্ষামান ছাড়া কোন যাত্রী নেই। যাত্রীরা সকলেই স্থানীয় অধিবাসী। 

আলাপকালে বোটচালক রফিকুল আমিন ও নুর মোহাম্মদ বলেন, সারাবছর পর্যটক আসে এই রুটে। অনেকেই কাপ্তাই লেক এবং পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করে আবার অনেকেই বিলাইছড়ি উপজেলার ঝর্ণা আর পাহাড় দেখতে যায়। কিন্তু বিগত ১ মাস ধরে হরতাল আর অবরোধে পর্যটকরা আসেনা। যেখানে আমরা বোটচালকরা প্রতিদিন গড়ে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করতাম, এখন অলস বসে আছি। কেউ আমাদের খোঁজ রাখেনা।

বোট মালিক করিম মিয়া বলেন, আমার ৩টি বোট প্রতিদিন পর্যটকদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। প্রতিটি বোট থেকে গড়ে ১ হাজার টাকা আয় হতো। এখন পর্যটক বিহীন ঘাঁটে বোটগুলো অলস পড়ে আছে।

বোট মালিক জাহাঙ্গীর বলেন, আমার ২টি বোট আছে। বোটের চালকরা পর্যটক কম থাকায় বেকার হয়ে বসে আছে। কি করবো বুঝতে পারছি না।

জেটিঘাট বোট মালিক সমিতির লাইনম্যান শীতল চন্দ্র সরকার জানায়, হরতাল অবরোধ না থাকলে প্রতিদিন গড়ে ৫-৬শ’ পর্যটক এই নৌ রুটে চলাচল করতো। বেশ জমজমাট ছিল এই নৌ রুট। কিন্তু হরতাল অবরোধের কারণে বিগত এক মাস ধরে আমরা সকলেই মানবেতর জীবন যাপন করছি।

সম্পর্কিত বিষয়: