রাঙামাটি । রোববার, ২৩ জুন ২০২৪ , ৮ আষাঢ় ১৪৩১

ধর্ম ডেস্ক-

প্রকাশিত: ১১:০৬, ৪ জুন ২০২৪

কোরবানি যাদের ওপর ওয়াজিব, নিয়ম ও দোয়া

কোরবানি যাদের ওপর ওয়াজিব, নিয়ম ও দোয়া

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও পুরস্কার লাভের আশায় নির্ধারিত দিনে ব্যক্তির পশু জবাই করাই হলো- কোরবানি।

উল্লেখ্য, শুধু আত্মত্যাগই নয় বরং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার ভালোবাসার অনন্য এক নিদর্শনও কোরবানি। আল্লাহর কাছাকাছি হওয়ার মাধ্যম এ কোরবানি।

কোরবানি যাদের ওপর ওয়াজিব, নিয়ম ও দোয়া

‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিমের পক্ষ থেকে কোরবানি করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। অর্থাৎ, কেউ সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর সমপরিমাণ নগদ টাকা কিংবা সম্পদের মালিক হলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তার কোরবানি করা আবশ্যক।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত ও রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি সেসবকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর তাকবীর পাঠ করতে পারো, এ জন্য যে তিনি তোমাদের হেদায়াত দান করেছেন, সুতরাং তুমি সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দাও। (সূরা: হজ, আয়াত: ৩৭)

অন্যদিকে, হাদিসে এসেছে, মাহনাফ ইবন সুলায়মান (রা.) থেকে বর্ণিত, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে আরাফায় অবস্থান করছিলাম। তখন তিনি বলেন, ‘হে লোক সকল! আমাদের প্রত্যেক গৃহবাসীর ওপর প্রতি বছর কোরবানি করা ওয়াজিব’। (আবু দাউদ, ২৭৭৯)

একটি কোরবানি হলো একটি ছাগল, একটি ভেড়া বা একটি দুম্বা অথবা গরু, মহিষ ও উটের ৭ ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ একটি গরু, মহিষ বা উট ৭ শরিকে বা ৭ জনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যাবে।

জাবির (রা.) আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা হুদায়বিয়াতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে ৭ জনে একটি উট বা ৭ জনে একটি গরু কোরবানি করেছি’। (তিরমিজি, হাদিস: ১৫০৮)

এ ক্ষেত্রে কোরবানির পশু যেমন সুস্থ হতে হবে তেমনি কম বয়সী হওয়াও চলবে না। আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এরূপ দুম্বা কোরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যার ২টি শিং হবে নিখুঁত, আর পেট, বক্ষদেশ এবং পা হবে কালো রঙের। অতঃপর এরূপ দুম্বা তার নিকট আনা হলে, তিনি বলেন- হে আয়শা! ছুরি নিয়ে এসো। পরে তিনি বলেন, একে পাথরের ওপর ঘষে ধারালো করো। অবশেষে তিনি ছুরি নেন এবং দুম্বাকে ধরে জমিনে শুইয়ে দেন এবং জবেহ করার সময় নিচের দোয়াটি পাঠ করে দুম্বাকে কোরবানি করেন।

بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন মুহাম্মাদিন, ওয়া-আলি মুহাম্মাদিন ওয়া-মিন-আম্মাতি মুহাম্মাদিন।

অর্থ: ‘আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আপনি একে মুহাম্মাদ, আলে মুহাম্মাদ এবং উম্মতে মুহাম্মাদের পক্ষে কবুল করুন’। (আবূ দাউদ, হাদিস: ২৭৮৩)

এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে জিলহজ মাসে যে ব্যক্তি কোরবানি করতে চান তার জন্য ১০ দিন চুল-নখ কাটায় নিষেধ রয়েছে। উম্মু সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন (জিলহজ মাসের) প্রথম ১০ দিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছু স্পর্শ (কর্তন) না করে। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৮২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৯৫৫)