রাঙামাটি । শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

খেলা ডেস্কঃ-

প্রকাশিত: ১৫:৪০, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ ২০২৩

লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

লড়াই করে হারল বাংলাদেশ
ফাইল ছবি

সিলেট টেস্টের সুখস্মৃতি নিয়ে ঢাকায় এসেছিল টিম বাংলাদেশ। মিরপুরে মাঠে নামার আগেই টাইগাররা দাঁড়িয়ে ছিল দারুণ এক ইতিহাসের সামনে। হোম অব ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড বধ হলেই ইতিহাস গড়তেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।

ইতিহাস গড়ার পথে বাংলাদেশের বাধা হয়ে দাঁড়ায় বেরসিক বৃষ্টি। মাথার ওপরে কালো মেঘ নিয়েই ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন কাটিয়ে দেয় দুদল। তবে দ্বিতীয় দিন মিরপুরের আকাশ ভেঙে ঝরতে শুরু করে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিতেই দিনের খেলা ভেস্তে যায়। এতে খেলা গড়ায় তৃতীয় দিনে। যেখানে কিউইদের অল্পতেই আটকে দেয় টাইগাররা।

ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন নতুন স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ দল দেখে ব্যাটিং বিপর্যয়। তাতেই কিউইদের বিপক্ষে টেস্ট ফরম্যাটে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে স্বাগতিকদের।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টাইগারদের দেওয়া ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নিউজিল্যান্ড। এতে সিরিজ ১-১ এ ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে শান্ত বাহিনীকে।

এর আগে ঢাকা টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে অল আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ১৪৪ রান। নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৭২ ও নিউজিল্যান্ড ১৮০ রান করেছে। এতে কিউইদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩৭ রান।

বাংলাদেশের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন ডেভন কনওয়ে ও টম লাথাম। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই এ জুটিতে আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। তার পেসে পরাস্ত হয়ে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন কনওয়ে। আউট হওয়ার আগে ২ রান করেন তিনি।

তিন নম্বরে ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু তিনিও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে তাইজুলের বলটি মিস করেন। পরে সেই সুযোগে স্ট্যাম্পিং করেন সোহান।

এরপর বাইশ গজে নিজেদের মেলে ধরার আগেই সাজঘরের পথ ধরেছেন হেনরি নিকোলস (৩)। এরপরই ফিরে যান টম ব্লান্ডেল ও ড্যারিল মিচেল।

নিয়মিত বিরতিতে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে কিউইরা। তবে স্যান্টনারের সঙ্গে ৭০ রানের জুটি গড়েন গ্লেন ফিলিপস। এ জুটির ব্যাটেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টিম সাউদির দল। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসান। তবে ম্যাচের শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে দেন জয়। অ্যাজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে ২ রানেই থামেন এ ডানহাতি ব্যাটার।

জয়ের বিদায়ে উইকেটে আসেন টাইগার দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত। অতি আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তিনিও নিজের ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হন। টাইগার দলপতিকে থামিয়েছেন কিউই অধিনায়ক টিম সাউদি। আউট হওয়ার আগে ১৫ রান করেন এ বাঁ-হাতি ব্যাটার।

এরপর ক্রিজে আসেন মুমিনুল হক। তবে নিজের ব্যক্তিগত ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। অ্যাজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন এ ব্যাটার। পরে বাইশ গজে এসে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। স্যান্টরারের বলে আউট হওয়ার আগে ৯ রান করেন এ ডানহাতি ব্যাটার।

এরপর শুধু আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন টাইগার ব্যাটাররা। ব্যাট হাতে দুই অঙ্কের ঘর ছোঁয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন শাহাদাত হোসেন দিপু (৪), মেহেদী হাসান মিরাজ (৩), নুরুল হাসান সোহান (০) ও নাঈম হাসানরা (৯)।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় লক্ষ্য থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। তবে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন টাইগার ওপেনার জাকির হাসান। তার ফিফটিতে ভর দিয়েই লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট শিকার করেছেন অ্যাজাজ প্যাটেল।