রাঙামাটি । শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪ , ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

ধর্ম ডেস্কঃ-

প্রকাশিত: ১১:১২, ৩১ আগস্ট ২০২৩

বদনজর প্রতিরোধে করণীয়

বদনজর প্রতিরোধে করণীয়
ফাইল ছবি

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বদ নজর সত্য। (সহিহ বুখারি: ১০/২১৩) অর্থাৎ এর বাস্তবতা বা কুপ্রভাব আছে। এটা অমূলক ভিত্তিহীন কোনো ধারণা নয়। আরেকটি হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা বদনজরের খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা কর, কারণ তা সত্য। (ইবনে মাজা: ৩৫০৮)

বদনজর আমলে নেওয়ার নজির কোরআনে উল্লিখিত হয়েছে। আল্লাহর নবী ইয়াকুব (আ.) তার ছেলেদের একসঙ্গে মিশর শহরে না প্রবেশ করে আলাদা আলাদাভাবে প্রবেশ করতে বলেছিলেন; যেন তারা মানুষের হিংসা ও বদনজরের শিকার না হন। আল্লাহ বলেন-

وَقَالَ يَا بَنِيَّ لَا تَدْخُلُوا مِن بَابٍ وَاحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوَابٍ مُّتَفَرِّقَةٍ ۖ وَمَا أُغْنِي عَنكُم مِّنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ ۖ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ

অর্থ: ‘ইয়াকুব বললেনঃ হে আমার বৎসগণ! সবাই একই প্রবেশদ্বার দিয়ে যেয়ো না, বরং পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আল্লাহর কোনো বিধান থেকে আমি তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারি না। নির্দেশ আল্লাহরই চলে। তারই ওপর আমি ভরসা করি এবং তারই ওপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের’।

وَلَمَّا دَخَلُوا مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم مَّا كَانَ يُغْنِي عَنْهُم مِّنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ إِلَّا حَاجَةً فِي نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَاهَا ۚ وَإِنَّهُ لَذُو عِلْمٍ لِّمَا عَلَّمْنَاهُ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ

‘তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের বাঁচাতে পারল না। কিন্তু ইয়াকুবের সিদ্ধান্তে তার মনের একটি বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন। এবং তিনি তো আমার শেখানো বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ অবগত নয়’। (সূরা: ইউসুফ, আয়াত: ৬৭-৬৮)

পবিত্র কোরআনের ব্যখ্যাকাররা বলেছেন, এখানে ইয়াকুব (আ.) বদনজরের আশংকায় তাদের ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে মিশরে প্রবেশ করতে বলেছিলেন।

সুতরাং বদনজরকে ভিত্তিহীন মনে না করে এটা থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে হবে। বদনজর লেগে গেলে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা, কোরআন হাদিসে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে তা দূর করার চেষ্টা করতে হবে।

বদনজর প্রতিরোধে করণীয়

(১) সকালে ও সন্ধ্যায় সাতবার করে নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করুন:

أعوذ بكلمات الله التامة من كل شيطان وهامة ومن كل عين لامة
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাত দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি’। (সহিহ বুখারি)

(২) সকালে ও সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে বুলিয়ে দিন।

(৩) সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে পাঠ করুন:

بسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيء في الأرض ولا في السماء وهو السميع العليم
অর্থ: ‘আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে যার নামের সঙ্গে পৃথিবীর ও আকাশের কোনো জিনিস ক্ষতিসাধন করতে পারে না এবং তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা’। (সুনান আবু দাউদ, সুনান তিরমিজি)

(৪) কোনো কিছু দেখে ভালো লাগলে সুবাহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, মাশাআল্লাহ বলুন। তাহলে আপনার নজরের ক্ষতিকর প্রভাব ওই ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর পড়বে না।

ইয়া আল্লাহ! আমাদের সবাইকে বদনজর প্রতিরোধের আমলগুলো যথাযতভাবে করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জনপ্রিয়