রাঙামাটি । রোববার, ২৩ জুন ২০২৪ , ৮ আষাঢ় ১৪৩১

কাপ্তাই প্রতিনিধিঃ-

প্রকাশিত: ১০:১৯, ২ মে ২০২৩

আপডেট: ১০:২০, ২ মে ২০২৩

​​​​​​​পরীক্ষার্থীরা ৫০ কিঃ মিঃ শুকনো খাল পাড়ি দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে

দুর্গম বিলাইছড়ি উপজেলাঃ

​​​​​​​পরীক্ষার্থীরা ৫০ কিঃ মিঃ শুকনো খাল পাড়ি দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে
বিলাইছড়ি উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও নিলাদ্রী রিসোর্টে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা রাত্রিযাপন করেছেন।

রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলাধীন দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন। বিলাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে নৌ পথে রাইংখ্যং খাল পাড়ি দিয়ে প্রায় ৫০ কিঃ মিটার দূরের এই ইউনিয়নে অবস্থিত ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়।

গত রবিবার (৩০ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া চলমান এসএসসি পরীক্ষায় এই ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে সর্বমোট ৭৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলে জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষক শান্তিময় তঞ্চঙ্গ্যা। তাদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য একটি মাত্র কেন্দ্র বিলাইছড়ি সদরে অবস্থিত বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আসতে হয়। কিন্তু এই শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ এবং রাইংখ্যং নদীর পানির স্তর এতই নীচে নেমে গেছে যে, এই ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত যেতে আড়াই-তিন ঘন্টা সময় লাগতো, বর্তমানে সময় লাগছে প্রায় ১২-১৫ ঘন্টা। ফলে বাধ্য হয়ে এসব পরীক্ষার্থীদের উপজেলা সদরে এসে কোন আত্মীয়ের বাড়ি কিংবা ভাড়া করা হোটেলে মাসব্যাপী থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

তবে এক্ষেত্রে বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান তাদের থাকার সু-ব্যবস্থা করেছেন বলে জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক শান্তিময় তঞ্চঙ্গ্যা।

তিনি জানান, মেয়েদের উপজেলা নীলাদ্রি রিসোর্টে এবং ছেলেদের উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত সোমবার (১ মে) প্রধান শিক্ষক শান্তিময় তঞ্চঙ্গ্যার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এ বছর শুষ্ক মৌসুমে রাইংখ্যং নদী প্রায় পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে, ফলে এই এলাকার-শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌঁছাতে দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

তিনি জানায়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য গত ২৮ এপ্রিল ফারুয়া থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভোর সাড়ে ৪টায় নৌকা যোগে ফারুয়া থেকে রওনা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে রয়েছে তাদের বই, জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী। নদীতে পানি না থাকায় নৌকা বার বার মাটিতে আটকে যাচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা নদীতে নেমে নৌকা ঠেলে ঠেলে বিলাইছড়ি সদর অভিমূখে নিয়ে আসে। মোট ৬টি ইঞ্জিন চালিত নৌকার মধ্যে ১ম নৌকা বিলাইছড়িতে পৌঁছায় বিকাল ৫টায়। পরবর্তীতে বাকী নৌকা গুলো ক্রমান্বয়ে এসে পৌঁছে। শেষ নৌকাটি পৌছে রাত সাড়ে ১০টায়। নৌকা থেকে জিনিসপত্র নামাতে রাত সাড়ে ১১টা বেজে যায় সেদিন। প্রখর রৌদ্রে নৌকা ঠেলতে ঠেলতে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবে প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিলাইছড়ি সদরে এসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, যদি ফারুয়ায় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকতো তাহলে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। তাই অতিসত্বর ফারুয়ায় একটি এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র চালু করা খুবই জরুরী। এটা ফারুয়ার অভিভাবকদের প্রাণের দাবী। শিক্ষার্থীদের দুঃখ এখানে শেষ নয়, থাকা-খাওয়া, পানীয় জলের ব্যবস্থা এগুলোতো না বললেই নয়। এ ব্যাপারে ধন্যবাদ দিয়ে ঋণ শোধ করা যাবে না, যারা আমাদের অভিভাবকের মত ছায়া হয়ে সকল সমস্যার সমাধান করে দিলেন, তারা হলেন অত্র উপজেলার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোঃ মিজানুর রহমান জানান, অনেক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে, শুকিয়ে যাওয়া রাইংক্ষং খাল বেয়ে ১০ থেকে ১৫ ঘন্টা সময় ব্যয় করে তাদের উপজেলা সদরে এসে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তবে তাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যতদিন এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, ততদিন বিলাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সদর নীলাদ্রি রিসোর্টে মেয়েদের এবং উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ছেলে ও শিক্ষকদের থাকার ব্যবস্থা করেছি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা দিনে এসে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না, তাই আমরা পরীক্ষা চলাকালীন সময় তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করেছি।

সম্পর্কিত বিষয়: